পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-৬: প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
মোঃ মিজানুর রহমান খুলনা
দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬ (এসআরবি-৬)। পূজামণ্ডপে বিশেষ টহল, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে তল্লাশিচৌকি, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার(১৭ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় খুলনার ধর্মসভা মন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এসআরবি-৬-এর দায়িত্বপূর্ণ আটটি জেলায় মোট ৫ হাজার ৩৫৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৩৯৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত ১৩ অক্টোবর থেকে এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ টহল শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকার টহল দল নিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করছেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, তিন স্তরে পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রথম স্তরে টহল দলের সদস্যরা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। আর তৃতীয় স্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।সোনা ও মদসহ বিমানবন্দরে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার পণ্য জব্দ।
তিনি আরও বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসআরবি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সাইবার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়েও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে নজরদারি রাখা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক বলেন,দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক কমিটি, সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন