খুলনা জেলা পরিষদের ৭৫ দোকান ঘিরে বিতর্ক।
ইরানি পারভীন
খুলনার ডুমুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী চুকনগর বাজার। ২০২৩ সালে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন যতীন কাশেম সড়কের দুই পাশে জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত হয় ৭৫টি দোকানঘর। সরকারি নিয়ম মেনে এসব দোকান ব্যবসায়ীদের ইজারা দেওয়া হয় বলে জানায় জেলা পরিষদ।
তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু দোকানঘরের মালিক আদালতে মামলা করে দাবি করেন, সরকারি এসব দোকানের কারণে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মামলাটি এখনও বিচারাধীন। এরই মধ্যে দোকানগুলো অপসারণের দাবিতে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করেছে বাজার বণিক সমিতি।
বাইট
সাধারণ দোকানঘর মালিক (একাধিক)
দোকান অপসারণের খবরে উদ্বেগে পড়েছেন ইজারাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সরকারি নিয়মেই তারা দোকান নিয়েছেন। এই ৭৫টি দোকানে প্রায় ৩০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দোকানগুলো উচ্ছেদ হলে বহু পরিবার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারাবে।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ব্যক্তি স্বার্থে একটি মহল দোকানগুলো অপসারণের চেষ্টা করছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
বাইট
সাধারণ দোকানঘর মালিক (একাধিক)
বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইদুর ইসলাম বলেন, তিনি ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবির পক্ষেই আছেন। তবে দোকান অপসারণের অভিযোগ নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি।
বাইট
সাইদুর ইসলাম
অন্যদিকে, জেলা পরিষদের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ফরহাদ হোসেন বাবু বলেন, তিনি শুধু বকেয়া ইজারা সরকারি নিয়মে পরিশোধের পরামর্শ দিয়েছেন।
বাইট
ফরহাদ হোসেন বাবু
এদিকে ৬৯ জন দোকান মালিক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেছেন, যোগসাজশের মাধ্যমে দোকানগুলো অপসারণের চেষ্টা চলছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, দোকানগুলোর সব ইজারার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে এবং বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা পরিষদ কাজ করছে।
একেকটি দোকান শুধু একটি ব্যবসা নয়—একটি পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই শত শত মানুষের জীবিকার ভবিষ্যৎ কী?



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন