দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
খুলনার দিঘলিয়া থানা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় দিঘলিয়া থানা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল- সেবা প্রাপ্ত খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ তাইজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্কেল এ মোঃ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম এবং সঞ্চালনা করেন এসআই আদর্শ কুমার দাস। হাফেজ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোঃ তাইজুল ইসলাম বলেন, দিঘলিয়া উপজেলার কোথাও ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে কেউ সুপারিশ করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছ থেকে যেকোনো অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশের বিদ্যমান জনবল ও সক্ষমতা নিয়েই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে সে বিষয়ে পরিবারের সচেতন নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় আড্ডা ও অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা রোধে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ওসি মোঃ শাহ আলম বলেন, এ মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধুমাত্র পুলিশের দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের সকল মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংসহবিভিন্ন অপরাধ দমনে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য থাকলে নির্ভয়ে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় সর্বোচ্চ গোপন রাখা হবে।
ওসি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জনগণের সেবাই বাংলাদেশ পুলিশের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ গঠনে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে সকলের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করা হয়।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন