ঘটনার বিবরণ: ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার সনমানদী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে মো. জাকির হোসেনের ওপর ৪-৫ জন সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করে। এতে তার বাম চোখে মারাত্মক জখম হয়। হামলার পর সন্ত্রাসীরা জাকির হোসেনের বাড়িতে যাতায়াতের প্রধান রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়ে পরিবারটিকে সামাজিকভাবে বন্দি করার অপচেষ্টা চালায়।
হামলার নেপথ্য কারণ: পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে জাকির হোসেনের নাতনি আইরিন জাহান তানহা (১৩)-কে ধর্ষণের অভিযোগে শান্ত হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ শান্তকে গ্রেফতার করলেও সম্প্রতি সে জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর থেকেই শান্ত ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত মামলা প্রত্যাহারে ব্যর্থ হয়ে তারা সরাসরি এই সশস্ত্র হামলার পথ বেছে নেয়।
অভিযুক্ত যারা: এ ঘটনায় জাকির হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— নাজিরপুর গ্রামের জয়নাল (৬০), মো. শান্ত হোসেন (২৭), মো. আমির হোসেন (৬০), মনজিল (৪০) এবং মো. সুমন (২৫)।
এলাকাবাসীর উদ্বেগ: স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রভাবশালী এই চক্রটির দৌরাত্ম্যে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিচার চাওয়ার অপরাধে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ ও নির্যাতন করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আইনের আশ্রয় নেওয়াই যদি জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন