রিফাত আরেফিন
যশোর-৩ (সদর) আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদের এপিএস ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু মুসা মধুুসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। যশোর জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর ও লুটপাটের মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছ।
সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদের যাবতীয় সবকিছু দেখভাল করতেন সুজন সাত্তার ও আবু মুসা মধু। এ দু’জনের মধ্যে সুজন সাত্তার এমপির পিএস পরিচয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, পদোন্নতি এমনকি কমিটি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি-গত ১৫ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সভাপতি যেই থাকুক না কেন, সুজন সাত্তার ছিলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি এমপি’র বিশেষ ফান্ডের নামে টাকা নিতেন-এমন অভিযোগ সর্বমহলের। যদিও এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। ভুক্তভোগী মহল দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ যে ৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে, তাদের বিএনপি অফিসে ভাংচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-যশোর সদর উপজেলার নওদা গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে মুকুল আহম্মেদ মিঠু ও পুরাতন কসবা এলাকার লাইকুজ্জামানের ছেলে আলীমুজ্জামান। তারা ৩জনই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তারেক নাহিয়ান বলেন, তারা আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নানা ধরণের অন্যায় করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ পেয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেলে যশোর বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্ত। এসময় অফিসের বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের ৬৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সাবেক সহসম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ফোরামের নেতা শংকরপুর এলাকার অ্যাডভোকেট এমএ গফুর।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন