জিহাদুল ইসলাম
তীব্র তাপদাহ ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস: চরম তাপদাহের কারণে বাংলাদেশে কৃষিশ্রমিক এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের কাজের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ২০৮০ সাল নাগাদ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে শ্রম সরবরাহ ও উৎপাদনশীলতা ৪৬ শতাংশের বেশি কমে যেতে পারে।
কৃষি খাতে প্রভাব: লবণাক্ততা বৃদ্ধি, খরা এবং বন্যার কারণে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৩০ শতাংশ কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়বে, যা লাখ লাখ কৃষিশ্রমিককে কর্মহীন করে তুলতে পারে।
পোশাক শিল্পে ঝুঁকি: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের (RMG) প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী, প্রচণ্ড তাপদাহের ঝুঁকি মোকাবেলা করছেন। কারখানার ভেতরের উচ্চ তাপমাত্রা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যু: তীব্র গরমে কাজের সময় শ্রমিকদের অজ্ঞান হয়ে পড়া, অসুস্থ হওয়া এমনকি মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি: উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ শহরমুখী হচ্ছে, যা শহরাঞ্চলে শ্রমের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থনৈতিক ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি:
এই পরিস্থিতির ফলে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি হুমকির মুখে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গভীর হুমকি।
এই সংকট মোকাবেলায় শ্রমিকদের জন্য কাজের পরিবেশ উন্নত করা, কাজের ঘণ্টা পরিবর্তন করা এবং স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এস এম জিহাদুল ইসলাম টুটুল
সংগঠনিক সম্পাদক কেন্দ্রীয় যুব কমিটি
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন