দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
৫ আগস্ট বিকালে আজিবার শেখের নেতৃত্বে প্রথম দফা বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট হয়। পরের দিন পুনরায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চলে। ভয়, আতঙ্ক এবং প্রাণের ভয়ে অসুস্থ স্বামী এবং দুই ছেলেকে নিয়ে টানা ৩০ বছরের স্মৃতি বিজড়িত বসতবাড়ি ছেড়ে নগরীর শিরোমনি ভাড়া বাসায় উঠেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের গাজী নাসির উদ্দিনের স্ত্রী শিরিনা বেগম। অনেক স্মৃতি বিজড়িত বাড়িতে আসার জন্য মন কাঁদলেও ভয় এবং আতঙ্কে পিছু হটে। স্বামীর অসুস্থতায় অর্থের প্রয়োজনে গত বছরের ১ অক্টোবর ওমর আলী শেখ নামক এক ক্রেতার কাছে বাড়ির কিছু গাছ বিক্রি করে শিরিনা বেগম। কিন্তু সে গাছ বিক্রিতেও বাধা সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী আজিবার শেখ (৪০)। এক সময় যার নামে একাধিক মামলা ছিল। ৫ আগস্টের পর ভয় ভীতি, হুমকির ভয়ে মামলাগুলো তুলে নিতে বাধ্য হয় বাদী। আজীবারের বাড়ি লাখোহাটি গ্রামে। পিতার নাম মোনতার ওরফে মোনা শেখ।
গাছ বিক্রির ক্রেতাকে ভয়-ভীতি, হুমকি ধামকি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে সাফ জানিয়ে দেয় বাড়ির মালিক নাসির গাজীর কাছে তিন লাখ টাকা পাব। টাকা না দিলে গাছ কাটা যাবে না। ক্রেতাকে গাছ কাটতে বাধা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আজীবার নাসির গাজীর স্ত্রী শিরিনা বেগমকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়-ভীতি, হুমকি ধামকি এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করে। ওই সময় এ ঘটনাসহ আজিবার শেখের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ভয়ে থানায় মামলা না করলেও দিঘলিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করে।
ছয় মাস পর গতকাল সোমবার সকালে পুনরায় ক্রেতা ওমর আলী গাছ কাটতে গেলে আজিবার শেখ আবারো তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তিন লাখ টাকা না দিলে বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দিবে না বলে হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলে। এসময় বাড়ির পুকুর লিজ নেওয়া জাহাঙ্গীরের সাথেও অসৌজন্য মূলক আচরণ করে তার সঙ্গে তর্কে জড়ায়।
এ ঘটনায় শিরিনা বেগম গতকাল সোমবার দিঘলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, স্বামী অসুস্থ থাকায় ৬ মাস পূর্বে বাড়ির কিছু গাছ বিক্রি করি। আজিবার শেখ গাছের ক্রেতাকে গাছ কাটতে বাধা প্রদান করে আমার নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। ঘটনার জের ধরে গতকাল ৯ মার্চ সকালে গাছের ক্রেতা ওমর আলী গাছ কাটতে আসলে পূর্বের ন্যায় তাকে বাধা প্রদান করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি হুমকি ধামকি প্রদান করে গাছ কাটা বন্ধ রাখতে বলে।
অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, আজিবার শেখ একজন বেপরোয়া, উগ্রপন্থী ও দুর্বৃত্ত প্রকৃতির লোক হওয়ায় এ ঘটনা আমিও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
গাছ কাটতে বাঁধা এবং তিন লাখ টাকা দাবির সত্যতা স্বীকার করে আজিবার খুলনা গেজেটকে বলেন, আওয়ামী লীগের সময় নাসির গাজী ওর ভাই চেয়ারম্যান জাকির গাজী আমাদের অনেক অত্যাচার, হামলা, মামলা দিছে। নাসির গাজী আমার কাছ থেকে তিন দিন এক লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকা নিয়ে ওর ভাই জাকির গাজীকে দিছে মনে হয়। নাসির গাজী মারা গেলে আমি লাশ আটকাতে চাইছিলাম। থানা বিএনপি'র দুইজন শীর্ষ নেতা আমাকে বললেন লাশ আটকালে খারাপ দেখা যাবে। পরে দেখা যাবে।
গাছ কাটতে গেলে আমি বাধা দিয়েছে কারণ ওটা সরকারি গাছ। আমার তিন লাখ টাকা না দিলে গাছ কাটা যাবে না।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, 'অভিযোগ পেয়েছি, কিন্তু এখনো দেখার সুযোগ পাইনি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন