খুলনা ব্যুরো
খুলনায় সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন খুলনা প্রেসক্লাব দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির নিয়ন্ত্রণে থাকার ঘটনায় পেশাজীবী সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মাত্র তিন মাসের জন্য গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি একাধিকবার মেয়াদ বাড়িয়ে দেড় বছর ধরে ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন পেশাদার সাংবাদিককে আইন বহির্ভূতভাবে সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং অনেকের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্লাবের পূর্ববর্তী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিন মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দায়িত্ব ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও নির্বাচন না দিয়ে একই কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা প্রেসক্লাবের এক সিনিয়র সাংবাদিক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্লাবের বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের ৯ ধারার (খ) উপধারা অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৪৫ দিনের বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।
ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর থেকে আহ্বায়ক কমিটির কোনো বৈধতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে এমন বিষয়ে সাধারণ পরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, যদি না গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। কিন্তু সাধারণ পরিষদের দোহাই দিয়ে অগঠনতান্ত্রিকভাবে একটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা অনভিপ্রেত এবং গঠনতন্ত্র পরিপন্থী।
প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য ও পেশাদার সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য থাকে। কিন্তু এখানে দেড় বছর পার হয়ে গেলেও নির্বাচন হয়নি।
এতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘিত হয়েছে এবং কার্যত প্রেসক্লাবকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন ৷


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন