গত ১৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ ইং রাত ২১.৪০ ঘটিকায় র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন আইটি পার্ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে যশোর জেলার শংকরপুরের চাঞ্চল্যকর তানভীর হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং যশোরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মুসা ,পিতা: হাফিজুর রহমান, সাং: শংকরপুরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী মুসা কে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই তারিখ রাত ২২.৪০ ঘটিকার সময় যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন শংকরপুর গ্রামের জনৈক নুরুন্নবীর বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বের জনৈক শাহিনের আধা পাঁকা টিনশেড বাড়ি সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বের ডোবার পার্শ্বের ময়লার স্তুপের মধ্য হইতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে ০৫ (পাঁচ) টি ককটেল ও ০১ (এক) টি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার পূর্বক জব্দ করে।
ভিকটিম মোঃ তানভীর হাসান পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলো। ইতোপূর্বে ভিকটিমের বন্ধু আফজাল খুনের প্রতিবাদ করায় এজাহারে উল্লেখিত আসামি মুসা সহ অন্যান্য আসামিদের সাথে শত্রুতা ও দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ইং ০৬/১২/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় যশোরের নাজির শংকরপুর (হাজারীগেট) এলাকায় ভিকটিম তানভীর হাসানের বাড়িতে আসামি মুসা ও অন্যান্য আসামিরা মিলে ভিকটিম হাসানকে খুন করার উদ্দেশ্যে খোঁজাখুজি করে। এসময় আসামিরা ভিকটিমকে বাড়িতে না পেয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করে চলে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিম ওই রাতেই যশোরের শংকরপুর হাজারীগেট থেকে শংকরপুর আনসার ক্যাম্পে যাওয়ার পথিমধ্যে ইং ০৭/১২/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ১২.৩০ ঘটিকায় শংকরপুর আনসার ক্যাম্পের পিছনে পৌছানো মাত্রই আসামিরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে ভিকটিম তানভীর হাসানকে এলোপাতাড়িভাবে ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভিকটিমকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। উক্ত বিষয়ে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্তরা নিজেদের আত্মগোপন করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি মুসা এর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ ১টি বিস্ফোরক, ০২ টি হত্যা চেষ্টা, ০২ টি ধর্ষণ, ০১ টি দ্রুত বিচার ও অন্যান্য ধারায় ০২ টি সহ মোট ১০ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও এলাকায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে সে পরিচিত।
উদ্ধারকৃত আলামত সহ গ্রেফতারকৃত আসামি মুসাকে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করতঃ বিস্ফোরক উপাদানাবলি আইন তৎসহ অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন