চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি গেস্ট হাউজ কক্ষ থেকে ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ১০ ম সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন অর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। - daily shadhinceta

এখানে আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন

সংবাদ শিরোনাম

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫

চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি গেস্ট হাউজ কক্ষ থেকে ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ১০ ম সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন অর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 


ইরানি পারভিন 

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের ভিআইপি রুম থেকে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন-অর-রশীদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।তিনি ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি মামলায় হাজিরা দিতে তিনি ৩ আগষ্ট রোববার বিকালে চট্টগ্রামে যান। চট্টগ্রাম ক্লাবের ৩০৮ নম্বর কক্ষে তিনি উঠেছিলেন।


রাত সাড়ে ১০টার দিকে রুমে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর সকালে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সন্দেহে দরজায় ডাকাডাকি করে। কিন্তু কোনো সাড়া না পেলে পেছনের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, তিনি বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন জানান, সাবেক সেনাপ্রধানের মরদেহ ক্লাবের রুমেই পাওয়া গেছে। তার মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



তিনি ১৯৪৮ সালে১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জন্মগ্রহণ করেন। এম হারুন-অর-রশীদ পাকিস্তানের কাকুলস্থ মিলিটারি একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। 


১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই রেজিমেন্টের বাঙালি সেনারা শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে বিদ্রোহ করেন। মুক্তিযুদ্ধের অবদানের জন্য তিনি ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন। একই দিন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। 

তিনি ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দশম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০০২ সালের ১৬ জুন জেনারেল হাসান মশহুদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে তিনি অবসরে যান।

জুনে অবসরে যাওয়ার পর সরকার তাকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজির রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও দিয়েছিল।

অবসরের পর তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয় ছিলেন। ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহসভাপতি।

২০২২ সালের ১২ মে একটি দুর্নীতির মামলায় তাকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন। তবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আদালতে জামিন আবেদন করলে হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করে এবং পরে সুপ্রিম কোর্টও জামিন বহাল রাখে এবং হারুন অর রশিদ এর অবরুদ্ধ সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব (রিলিজ) অবমুক্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে তবে জরিমানার তিন কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা তাকে পরিশোধ করতে হবে।


ডেসটিনি মাল্টি পারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম  বলেন, “আজকে এখানে আমাদের একটি মামলার হাজিরার তারিখ ছিল। আমরা সবাই কোর্টে এসেছি। কিন্তু সময় হয়ে যাওয়ার পরও উনি আসছিলেন না, উনাকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছিল না।


সোমবার সকালে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে। তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সাবেক সেনা প্রধান হারুন অর রশিদ এর মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি পরিকল্পিত খুন বিষয় টি এখনো কিছুই জানা যায় নি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here